Category: নিউজ-গল্প
গুরগাঁওয়ের ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ আটক শুধু বাংলা বলার অপরাধে
গুরগাঁও, ২৬ জুলাই: হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে অবস্থিত তথাকথিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’গুলোতে বেঙ্গলি ভাষাভাষী পুরুষদের আটক করা হচ্ছে শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে — এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি।
অন্য রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বাংলাভাষী। তারা গুরগাঁওয়ের নির্মাণ, পরিষেবা ও হোটেল খাতে কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, পুলিশের টহল চলাকালীন রাস্তায় বা দোকানে বাংলা বলার কারণে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে। সেখান থেকে তাঁদের অনেক সময় ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে, আবার কখনও পরিচয়পত্র যাচাই না করেই দিনভর আটকে রাখা হয়েছে।
"আমি চায়ের দোকানে ফোনে আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করে, কী ভাষায় কথা বলছি। বললাম, বাংলা। তারা বলে, বাংলাদেশি নাকি? আমি বলি, না, আমি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বাসিন্দা। তাও তুলে নিয়ে যায়," — বলছিলেন শেখ সালাউদ্দিন নামে এক শ্রমিক।
এই ধরনের ঘটনার পরেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে গুরগাঁওয়ে কাজ করতে আসা পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বহু শ্রমিকের মধ্যে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা জানান, কোনও প্রমাণ ছাড়াই কাউকে শুধুমাত্র ভাষার ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বলে ধরে নিয়ে যাওয়া সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন।
"বাংলা ভারতের অন্যতম সরকারি ভাষা। শুধুমাত্র বাংলা বলার কারণে কাউকে বাংলাদেশি ভেবে আটকে রাখা নিছক বর্ণবিদ্বেষ এবং ভাষাবৈষম্য," — বলেন মানবাধিকার কর্মী অনিতা রাও।
পুলিশের দাবি, তারা বেআইনি অভিবাসীদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে। তবে শুধু ভাষা শুনে কারও নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গুরগাঁও পুলিশের মুখপাত্র। যদিও মজদুরদের অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলছে।
বর্তমানে গুরগাঁওয়ে কয়েকটি অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার খোলা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজনদের রাখা হচ্ছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অনেককে দিনভর না খাইয়ে রাখা হচ্ছে, প্রাথমিক চিকিৎসাও মিলছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের সামিল। তারা বলছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে ভাষা বা জাতি পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন।
AI
Back to News