Category: রম্য-রচনা
রাবন বধ পালা
আমাদের পাড়ায় নীল মাধব ক্লাব। প্রতি বছর যাত্রা পালা করে। শীতের ধান কাটার পর এক অবসর, তাই ঠিক করে যাত্রা পালা করবে। ক্লাবের সেক্রেটারি আনন্দউল্লাস। বাইরে আনন্দ, ভিতরে গুরু গম্ভীর।
ভারী মজার মানুষ। ক্লাবের সদস্যরা, কালী, শঙ্কর, গনেশ, চঞ্চল। আনন্দ উল্লাসের বেশ লম্বা দেহ, বেজায় মোটা। গনেশের বেশি মাত্রায় খাওয়ার ফলে পেট মোটা, সহজে নিচু হতে পরে না। এ এক জ্বালা। চঞ্চল, পাঠ ভুলে।
এবার পালা রাবন বধ। ঠিক হলো আনন্দ উল্লাস রাবন হবে। রাম হবে শঙ্কর,। গনেশ হনুমানের পাঠ করবে। চঞ্চল কম কথা বলবে বা বলবে না। তাই কুম্ভকর্ণ হবে চঞ্চল। প্রতি দিন ক্লাবে আড্ডা দিতে এসে যাত্রার অনুশীলন চলে।
শীতকাল প্যান্ডেল করে মাইক বাজিয়ে যাত্রা শুরু। অনেক লোক। কিছু ক্ষণ মিউজিক, কনসার্ট চলার পর হটাৎ গনেশ গদা হাতে স্টেজে, কিছু ক্ষণ গদা নিয়ে নাচা নাচি করার পর হাত থেকে গদা পড়ে গেলে, আর নিচু হয়ে গদা তুলতে পারছে না,। কিছু চেষ্টা করার পর ধুতি আলগা হয়ে ধুতি হাতে ধরে সোজা গ্রীন রুমে। আনন্দ উল্লাস স্টেজ ঘুরে গেল। কিন্তু মুশকিল হলো হলো কুম্ভকর্ণ কে নিয়ে।
Green রুমে বোধ হয় কিছু খেয়ে এতো ঘুম যে সে ঘুম আর ভাঙে না। অনেক ঠেলা ঠেলি করার পর বলল, আমি কুম্ভকর্ণ, সুতরাং ঘুম এক দম পাকা, be practical। যাত্রার জোর ঢাক ঢোল বাজলে আমি স্টেজে যাবো। যুদ্ধ স্টেজে আরম্ভ হলো। রাবনের এতো দাপট রাম পিছনে পড়ে যাবে এমন সময় রাবন রামের হাত ধরে তুলল। রাবন বলল, একে বলে সহবস্থান। হুনুমান স্টেজের কোনে বসে ছিল। অজান্তে লেজ জড়িয়ে গেছে স্টেজের বাঁশে। জোরে টান দিতে লেজ খসে গেল। এবার লোডশেডিং হলে রাম রাবন কে ধাক্কা দিলে, রাবন পড়ে গেল।
অনেক পড়ে থাকলো। আলো আসলে দেখলো রাবন পড়ে, রাবন বধ।
রাবন উঠে দাড়িয়ে বললে আজ রাবন বধ হয়নি,। রাম লোডশেডিং পেয়ে রাবানকে ধাক্কা দিয়েছে, হনূমান লেজ নিয়ে ব্যস্ত, কুম্ভকর্ণ এখনও গ্রীন রুমে।
লেখক : বিজন কুমার সেনগুপ্ত
Back to News