দৈনিক 𝓑𝓐𝓡𝓣𝓐𝓜𝓐𝓐𝓝

Category: মনস্তত্ব

৩৮-৪৫ বছর বয়সে পরকীয়ায় জড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কেন?

Published: 2025-08-01 15:33:49
৩৮-৪৫ বছর বয়সে পরকীয়ায় জড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কেন? on extramarital affair

যেসব নারীদের ১৬-১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে হয়, তারা ৩৮-৪৫ বছর বয়সে পরকীয়ায় জড়ানোর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি কেন?বয়স মাত্র ১৬ থেকে ১৯—এই সময়টায় একজন নারীর জীবন থাকে আবেগ, স্বপ্ন, ও পরিচয়ের সন্ধানে। কিন্তু এই বয়সে যদি কোনো মেয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তাহলে তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশে ঘটে বড় ধরনের বাঁধা। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কিশোরীবিয়ের শিকার নারীরা পরবর্তী জীবনে, বিশেষ করে ৩৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সে, পরকীয়ায় জড়ানোর প্রবণতা অনেক বেশি।

মানসিক অপূর্ণতা ও অবদমন

শিশু কিংবা কিশোরীবয়সে বিয়ে হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ইচ্ছার বিপরীতে একটি নতুন জীবনে প্রবেশ। এই বয়সে একজন নারীর ব্যক্তি পরিচয়, পছন্দ-অপছন্দ, যৌন চেতনা ও স্বপ্নগুলো পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠে না। পরিবারের, সমাজের, কিংবা স্বামীর চাপে তার নিজস্ব চাওয়া-পাওয়াগুলো চাপা পড়ে যায়। অনেক নারী তাই মাঝবয়সে এসে এক ধরণের "হারানো সময়ের ক্ষতিপূরণ" খুঁজতে গিয়ে আবেগের বা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারেন।

একঘেয়েমি ও যোগাযোগহীনতা

যেসব নারীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেন, তাঁদের অনেকের স্বামীর বয়স তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন একসাথে থাকার পর বয়সের ব্যবধান, মানসিক সংযোগের অভাব, যৌন জীবনে একঘেয়েমি ইত্যাদি কারণে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। এই ফাঁকা জায়গাটা কখনও কখনও অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে পূরণ হয়।

সামাজিক ও ডিজিটাল পরিবর্তন

আজকের সমাজে নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন, স্বাধীনচেতা এবং প্রযুক্তি-সক্ষম। ৩৮-৪৫ বছর বয়সে অনেক নারীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হন, পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, অথবা নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপের সুযোগ পান। এই ডিজিটাল ঘনিষ্ঠতা সহজেই এক সময় আবেগের জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে।

আবেগ ও স্বীকৃতির খোঁজ

অনেক নারী মনে করেন, তাঁরা জীবনে যতটা স্বীকৃতি, ভালোবাসা বা গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল, তা পাননি। সংসার, সন্তান, কাজ—সব কিছুতেই নিজেকে বিলিয়ে দিলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা অসম্পূর্ণ থাকেন। এই মানসিক অসন্তুষ্টি মাঝবয়সে এসে নতুন সম্পর্কের আকর্ষণ তৈরি করে।

উপসংহার

এই আলোচনার উদ্দেশ্য কোনো নারীর আচরণকে বিচার করা নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে একটি মেয়ের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়—এটাই মূল বার্তা। একমাত্র সচেতনতা, শিক্ষা, ও ব্যক্তিগত বিকাশের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

লেখক: Bartamaan বাংলা সংবাদ ডেস্ক with help of AI

Back to News