Spiritual
চড়কে পিঠে বড়শি ঢুকিয়ে ঘোরানো হয় – কিন্তু ছিঁড়ে যায় না কেন?
অনেকেই দেখে অ/বাক হন, কিভাবে পিঠে লোহার হু/ক গেঁথে মানুষ চড়ক ঘোরে, অথচ ছিঁ/ড়ে পড়ে না বা প্রচুর র/ক্তও হয় না। এর পেছনে আছে মানবদেহের গঠন এবং এই কাজ করার নির্দিষ্ট কৌশল।
আমাদের পিঠের ত্বকের নিচে কোলাজেন ফাইবার, চর্বি আর পেশি মিলিয়ে একটা শক্ত স্তর তৈরি হয়। এই স্তরের টান সহ্য করার ক্ষমতা (যাকে বলে *Tensile Strength*) অনেক বেশি – প্রায় ৩০০ থেকে ৫৯০ MPa পর্যন্ত। সহজভাবে বললে, প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে কয়েক কেজি ওজন ঝুললেও কিছু হয় না।
যখন হুক ঢোকানো হয়, তখন সেটা ত্বকের এক নির্দিষ্ট স্তরে—যাকে বলে *ফ্যাসিয়া লেয়ার*—তাতে ঢোকানো হয়। এই স্তর অত্যন্ত টেকসই এবং নমনীয়। একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হুক ঢোকায় খুব হিসেব করে, যাতে ওজন পুরো পিঠে ছড়িয়ে পড়ে, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় চাপ না পড়ে।র/
রক্তপাত কম হয় কেন?
পিঠের যেখানে হুক ঢোকানো হয়, সেখানে বড় কোনো র/ক্তনালী থাকে না। শুধু পাতলা পাতলা ক্যাপিলারি থাকে, যেগুলো ছিঁড়লেও সামান্য র/ক্ত পড়ে, আর তা দ্রুত জমাট বেঁধে যায়।
তাছাড়া, এই কাজ যারা করেন, তারা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। স্বেচ্ছায় করেন। ভয় না পেয়ে, এক ধরনের ভক্তির তাড়নায় করেন। শরীর তখন *অ্যাড্রিনালিন* হরমোন ছাড়ে, যা ব্যথা অনেকটা কমিয়ে দেয়। এতে তারা ব্যথা টের পান কম, বরং এক ধরনের “ভক্তির ঘোর” কাজ করে।
এই প্রথার শিকড় কোথায়?
চড়কে পিঠ ফুঁ/ড়ে ঘোরার প্রথাটা খুব আধুনিক কিছু নয়। এটা আসলে অনেক প্রাচীন এক ঐতিহ্যের রূপ, যাকে বলা হয় *Body Piercing Culture*।
প্রায় ৫ হাজার বছর আগে আফ্রিকায় এর শুরু। তারপর পৃথিবীর নানা প্রান্তে, আলাদা আলাদাভাবে এই প্রথার দেখা মিলেছে—যা প্রমাণ করে, মানুষের আদিম সংস্কৃতিতে শরীর ভেদন একটা সাধারণ ব্যাপার ছিল।
পরবর্তীতে কিছু ধর্ম (যেমন ইহুদি, খ্রিষ্টান, ইসলাম) শরীর ভেদন নিষিদ্ধ করলেও, আজও অনেক জায়গায় এটা সংস্কৃতি বা বিশ্বাসের অংশ হিসেবে টিকে আছে।
Source: Media