পিএফ ইস্যুতে জোড়া পদযাত্রা চা-শ্রমিকদের
সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের পিএফ বকেয়ার প্রশ্নে, শ্রমিক সংগঠনের নেতারা পরিষ্কার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বকেয়া ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্দিষ্ট কিছু চা-বাগান ছাড়া দার্জিলিং থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত সিংহভাগ বাগানে পিএফ বকেয়া রয়েছে।
শুরু হয়েছে বকেয়া পিএফ মেটানোর দাবিতে এবার ফের চা-বাগান শ্রমিকদের পদযাত্রা। মঙ্গলবার সকালে দুটি পদযাত্রা উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ের দুই প্রান্ত থেকে শুরু হয়েছে। একটি আলিপুরদুয়ার জেলার অসম সীমানার সঙ্কোশ চা-বাগান থেকে। অপরটি জলপাইগুড়ি জেলার এলেনবাড়ি চা-বাগান থেকে। আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় ২০০-র কাছাকাছি চা-বাগান ছুঁয়ে ১০ এপ্রিল দুই পদযাত্রা মিলিত হবে জলপাইগুড়ি জেলার গয়েরকাটায়। সেখান থেকে পরদিন জলপাইগুড়ি পিএফ অফিস অভিযান তৃণমূল চা-বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের। ঘেরাও করা হবে পিএফ অফিস।
মঙ্গলবার সংঙ্কোশ চা-বাগানে পদযাত্রার সূচনায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক, তৃণমূল চা-বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বীরেন্দ্র বরা ওঁরাও, আইএনটিটিইউসি আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি বিনোদ মিঞ্জ-সহ মাদারিহাটের বিধায়ক জয়প্রকাশ টয়ো, তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলার শীর্ষ নেতা সৌরভ চক্রবর্তী-সহ ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা। সঙ্কোশ থেকে নিউল্যান্ডস চা-বাগান পর্যন্ত একটানা ৫ কিমি পদযাত্রায় প্রকাশচিক বরাইক-সহ হেঁটেছেন উপস্থিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতা-কর্মী থেকে চা-বাগান কর্মীরা। মূলত দুটো অভিযোগ এদিন বারবারই করেছেন তৃণমূল নেতারা। এক, জলপাইগুড়ি পিএফ অফিসে দালাল চক্র সক্রিয়। দুই, বিপুল পরিমাণ পিএফ বকেয়া থাকলেও ন্যূনতম পদক্ষেপ নেই অফিসের।
প্রকাশচিক বরাইক বলেন, 'আমরা প্রতিটি চা-বাগান ছুঁয়ে যাব। যেখানে
যেখানে পদযাত্রা দাঁড়াবে সেখানে চা-বাগান নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির চা-বাগানের উন্নয়ন তুলে ধরব। সব চা-বাগান থেকে কর্মীরা পদযাত্রায় অংশ নেবেন।' বীরেন্দ্র বরা ওঁরাও বলেন, 'শুধুমাত্র নামের বানান গন্ডগোলের জেরে হাজার হাজার চা-শ্রমিকের পিএফ বকেয়া থাকছে। আমরা চাই অবিলম্বে রাজ্য সরকারের মতো প্রতিটি বাগানে দুয়ারে সরকারের মতো ক্যাম্প করে পিএফের সঙ্গে আধার কার্ডের নামের গন্ডগোল মেটানোর ব্যবস্থা হোক। পাশাপাশি অবিলম্বে দালাল চক্র বন্ধ হোক।' ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ার জেলায় ৬৪টি চা-বাগানের মধ্যে মাত্র ১৫টি বাগানে পিএফ ঠিকঠাক রয়েছে। বাকি ৩৯টি চা-বাগানে ২০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া। অনেক বাগানই শ্রমিকদের টাকা কেটে নিলেও তা জমা পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক দু'দিকের টাকাই জমা পড়ে না।
আলিপুরদুয়ার জেলার পদযাত্রা কুমারগ্রাম ব্লক থেকে শুরু হয়ে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লক, কালচিনি, মাদারিহাট, বীরপাড়া হয়ে গয়েরকাটা পৌঁছে যাবে। একই ভাবে জলপাইগুড়ি জেলায় এলেনবাড়ি থেকে চালসা, নাগরাকাটা হয়ে শ্রমিকরা গয়েরকাটা আসবেন ১০ এপ্রিল রাতে। ১১ তারিখ জলপাইগুড়িতে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, আইএনটিটিইউসি রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত ব্যানার্জির পিএফ অফিস ঘেরাও অভিযানে উপস্থিত থাকবার কথা।
Source:media