Category: Religion
প্রয়াত যোগগুরু স্বামী শিবানন্দ: ১২৯ বছরে জীবনাবসান
প্রখ্যাত যোগগুরু স্বামী শিবানন্দ বাবার জীবনাবসান হয়েছে। শনিবার রাতে ১২৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান যোগী। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং সেখানেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনপ্রিয়তা: স্বামী শিবানন্দ কেবল ভারতেই নন, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। সূত্রানুসারে, তাঁর নশ্বর দেহ ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দুর্গাকুণ্ডের আশ্রমে রাখা হবে। আশ্চর্যের বিষয়, ১২৯ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও তিনি শেষ দিন পর্যন্ত যথেষ্ট সক্ষম ছিলেন এবং প্রতিদিন ভোরে নিয়ম করে যোগাভ্যাস করতেন। মনে করা হয়, এটাই ছিল তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।
জীবনকথা: সরকারি নথি অনুযায়ী, স্বামী শিবানন্দের জন্ম ১৮৯৬ সালের ৮ অগাস্ট, অবিভক্ত ভারতের সিলেটে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম, যেখানে তাঁর বাবা-মা সংসার চালাতে ভিক্ষা করতেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাত্র ছয় বছর বয়সেই তিনি একই মাসে তাঁর বাবা, মা ও বোনকে হারান। এরপর তিনি আত্মীয়-স্বজনের কাছে বড় হন। জীবনের বেশ কিছু সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং বৃন্দাবনেও কাটিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে তিনি বারাণসীতে আসেন এবং গুরু ওঁকারনন্দের কাছে যোগ শিক্ষা লাভ করেন। বারাণসীর দুর্গাকুণ্ডেই তাঁর আশ্রম অবস্থিত। গত এক শতাব্দী ধরে তিনি প্রয়াগরাজ, নাসিক, উজ্জ্বয়ন ও হরিদ্বারের কুম্ভমেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। ২০২২ সালে তিনি দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। এছাড়াও তিনি যোগরত্ন ও বসুন্ধরারত্ন পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন।
স্বামী শিবানন্দের শিষ্য সঞ্জয় সর্বজ্ঞ জানান, শনিবার রাত ৯টায় যোগগুরু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যাতেও ভুগছিলেন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁকে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তাঁর প্রয়াণ হয়।
দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েও স্বামী শিবানন্দ নিজেকে দরিদ্র ও আর্ত মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছিলেন। বিশেষত কুষ্ঠরোগীদের সেবায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। পুরীর প্রায় ৫০০ কুষ্ঠরোগীর তিনি নিয়মিত সেবা করতেন।
AI